আগরতলা, ১০ ফেব্রুয়ারি : জিরানীয়া রেলস্টেশনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রাজ্যে নেশা কারবার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার আগরতলার বাধারঘাট রেলস্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। এক্সপ্রেস ট্রেনের পার্সেল ভ্যান থেকে এই নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধার করেছে আগরতলা রেল পুলিশ ও আরপিএফের যৌথ দল।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের পার্সেল ভ্যানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় সন্দেহজনক একাধিক প্যাকেট নজরে আসে। প্যাকেটগুলি খুলে দেখা গেলে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলের মোট পরিমাণ ও আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণের কাজ সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গণনা প্রক্রিয়া চলছিল।
ঘটনার পর রেল পুলিশ ও আরপিএফের আধিকারিকরা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। পার্সেল বুকিং সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোন স্থান থেকে এই চালান পাঠানো হয়েছে ও কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এর পিছনে একটি সংগঠিত নেশা পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এর আগে জিরানিয়া রেলস্টেশন থেকেও বড়সড় ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। পরপর দুটি রেলস্টেশন থেকে এই ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় রাজ্যে নেশা কারবারের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রেলপথকে ব্যবহার করে নেশা পাচারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।
এদিকে রাজ্যের অন্য প্রান্তে সোনামুড়া থানার পুলিশও নেশা বিরোধী অভিযানে সাফল্য পেয়েছে। সোনামুড়া থানার ওসি তাপস দাসের নেতৃত্বে গোপন খবরের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করে দুইজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন সোনামুড়া সিনেমা হল এলাকার বাসিন্দা মিহির আলম (৪৫) এবং রাঙ্গামাটিয়া এলাকার সাহা আলম মিয়া (৪১)।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই নেশা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে নেশা বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন