আগরতলা, ২৮ মার্চ : আমতলী থানার পুলিশের হাতে অবশেষে গ্রেফতার হলেন ওএনজিসির এক জুনিয়র ফায়ারম্যান। অভিযুক্তের নাম দ্বীপ গোলাপ দাস ওরফে ডেভিড। অভিযোগ, গত ২৩ মার্চ আমতলী থানার অন্তর্গত ওএনজিসি কলোনি এলাকায় এক বিশেষভাবে সক্ষম ৮ বছরের নাবালিকা মেয়েকে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও মারধর করেন তিনি।
জানা গেছে, খেলতে খেলতে নাবালিকা মেয়েটি অভিযুক্তের ব্যক্তিগত গাড়িতে রং লাগিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দ্বীপ গোলাপ দাস মেয়েটির গলা টিপে ধরে এবং তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরপরই নাবালিকার পরিবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
আহত নাবালিকাকে দ্রুত হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তার গলা টিপে ধরা হয়েছে এবং হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনেও অভিযোগ জানানো হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাক্তন পুলিশ কমিশনের সদস্যা ডঃ এইচ কেরল ডিসুজা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। এরপরই পুলিশের তৎপরতা বাড়ে।
শুক্রবার রাতে আমতলী থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে। তবে আটক হওয়ার পর অসুস্থতার ভান করে নতুন নাটক করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুনরায় থানায় নিয়ে আসে। এ সময় অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নিতে তার স্ত্রীসহ কয়েকজনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৫/২০২৬ নম্বর মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, একটি নাবালিকার সঙ্গে এমন নৃশংস আচরণ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি পরিতোষ দাস সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Middle East Crisis : বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধি, জ্বালানিতে শুল্ক নীতি পরিবর্তন—শেয়ার বাজারে ধস


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন