কোলকাতা, ২৯ মার্চ : দিঘার উত্তাল সমুদ্র যেন কেড়ে নিল এক প্রতিভাবান শিল্পীর প্রাণ। বাংলা বিনোদন জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত সহকর্মী থেকে অনুরাগী—সবাই।
রবিবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা-র কাছে তালসারি সমুদ্র সৈকত-এ ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিংয়ের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন অভিনেতা। শুটিং শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে সমুদ্রে নামেন তিনি। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্ত আচমকাই রূপ নেয় ট্র্যাজেডিতে—প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর জলে তলিয়ে যান।
প্রথমদিকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুটিং ইউনিটের সদস্যরাই দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। বেশ কিছুক্ষণ পর তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।
মাত্র ৪২ বছর বয়সে এমন অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড। অভিনেতা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পুত্র রাহুল ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের পরিবেশে বড় হন। ২০০০ সালে ‘চাকা’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর মতো জনপ্রিয় কাজের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশন সিরিয়াল, ওয়েব সিরিজ এবং প্রায় ৪৫০টিরও বেশি নাটকে তাঁর অভিনয় তাঁকে বহুমুখী প্রতিভার শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর পডকাস্ট ‘সহজ কথা’ বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না—লেখালেখিতেও সমান দক্ষ ছিলেন তিনি; প্রকাশিত হয়েছে একাধিক বই। পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং একমাত্র পুত্র সহজকে। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার, সহকর্মী এবং অসংখ্য অনুরাগীর জীবনে তৈরি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা।সমুদ্রের ঢেউ থেমে যায়, কিন্তু রেখে যায় গভীর দাগ। তেমনই রাহুল অরুণোদয়ের চলে যাওয়া বাংলা বিনোদন জগতে এক অনন্ত শূন্যতার সৃষ্টি করল—যা হয়তো কখনও পূরণ হওয়ার নয়।
Crime : আমতলীতে নাবালিকা হেনস্থার ঘটনায় গ্ৰেফতার ওএনজিসি কর্মী, কঠোর শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন