নতুন দিল্লি, ২৭ মার্চ : দেশের শিল্প ও জ্বালানি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। রাজ্যগুলিকে দেওয়া বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG)-এর পরিমাণ আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৭০ শতাংশ করার ঘোষণা করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব ডঃ নীরজ মিত্তল বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানান, অতিরিক্ত সরবরাহ করা এই এলপিজি ইস্পাত, অটোমোবাইল, বস্ত্র, রসায়ন, প্লাস্টিক ও রঞ্জক শিল্পে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বণ্টন করতে হবে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ নীতি পরিবর্তন করেছে। ডিজেল এবং বিমান জ্বালানি ‘এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল’ (ATF)-এর ওপর রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ২১ টাকা ৫০ পয়সা এবং ATF-এর ক্ষেত্রে ২৯ টাকা ৫০ পয়সা শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। তবে পেট্রোলকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে এবং এর ওপর অভ্যন্তরীণ লেভি তুলে নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও সীমা শুল্ক পর্ষদের (CBIC) চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। BSE Sensex দিনের শেষে ১,৬৯০ পয়েন্ট পড়ে ৭৩,৫৮৩-এ নেমে আসে। একইভাবে Nifty 50 সূচকও ৪৮৭ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ২২,৮২০-তে বন্ধ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও জ্বালানি খাতে নীতি পরিবর্তনের জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এই পতন দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শিল্পক্ষেত্রে গতি আনার লক্ষ্যে কেন্দ্রের পদক্ষেপ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে স্পষ্টভাবেই প্রতিফলিত হচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন