আগরতলা, ২৬ মার্চ : চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আগামী অর্থবছরের জন্য কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে আজ পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। পর্যালোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ নিজ নিজ দপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ এবং আগামী বছরের পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার সোনারতরী রাজ্য অতিথিশালার কনফারেন্স হলে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের লক্ষ্য হল বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া এবং মানুষকে উন্নত পরিষেবা দেওয়া। সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত যেন সরকারি সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায় সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সেচের সুযোগ সৃষ্টি করা, স্বচ্ছ ভারত মিশন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করা, বাল্যবিবাহ রোধ করা প্রভৃতি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
পর্যালোচনা সভায় শিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতি শনিবার বিদ্যালয়গুলিতে বালিকা মঞ্চের সভার আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক জানান, টিবি রোগ নিমূলীকরণ অভিযানে পশ্চিম জেলায় ৪৪৭ জন টিবি রোগী সনাক্ত হয়েছে। তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মঙ্গলবার জেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মা ও শিশুর টিকাকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কৃষি দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, পশ্চিম জেলায় আমন মরশুমে ১৫১৬.১১২ মেট্রিকটন ধান কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কেনা হয়েছে। রবি মরশুমে ৮,৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। উদ্যান দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, এ বছর জেলার ১৮৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফল ও ফুল চাষ করা হয়েছে। ২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন মশলা চাষ করা হয়েছে। ৮ হেক্টর জমিতে মাশরুম চাষ করা হয়েছে। ২০০ হেক্টর জমিতে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সব্জি চাষ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ নিগমের প্রতিনিধি জানান, চলতি অর্থবছরে জেলার ২ হাজার পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, ব্রহ্মকুন্ডে পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে।
জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, এ বছর কাজ করতে গিয়ে যেসব সমস্যা হয়েছে তা সংশোধন করে আগামী অর্থবছরের কাজ সময়মত শেষ করতে হবে। পশ্চিম ত্রিপুরাকে রাজ্যের শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অন্তরা সরকার (দেব), বিধায়ক মীনারাণী সরকার, জিলা পরিষদের বিভিন্ন সদস্য-সদস্যাগণ, বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানগণ, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকের বিডিওগণ।
Cabinet Decisions : দেশে সংশোধিত উড়ান প্রকল্পের জন্য’ও ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা অনুমোদন


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন