আগরতলা, ০৬ এপ্রিল : আগামী টিটিএএডিসি নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে। নির্বাচন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আধিকারিকরা যখন ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাদক পাচারকারী চক্র। বিশেষ করে খোয়াই মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নেশা সামগ্রীর পাচার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
সোমবার খোয়াই থানাধীন দুর্গানগর এলাকায় বিএসএফ-এর একটি অভিযানে বড়সড় সাফল্য মিললেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। অভিযানে বিএসএফ জওয়ানরা ১০ কেজি শুকনো গাঁজা এবং ৪৮ বোতল নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য খোয়াই থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেষ্টনী থাকলেও প্রতিটি অংশে সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো বাস্তবিকই কঠিন। সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে দূরত্বের ফাঁক গলেই পাচারকারীরা অন্ধকারের সুযোগে এপার-ওপার নেশা সামগ্রী পাচার করছে। অনেক সময় বিএসএফ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কিছু অংশ উদ্ধার করতে পারলেও, বড় একটি অংশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অধিকাংশ নজর এখন নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীভূত থাকায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলেও এই অবৈধ কারবার অবাধে চলছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ, যারা সহজেই এই মরণ নেশার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে।
একদিকে যখন রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসন ব্যস্ত, অন্যদিকে মাদক পাচারকারীরা সেই সুযোগে তাদের জাল বিস্তার করছে। নির্বাচনের এই ডামাডোলের মধ্যে কীভাবে এই মাদক চক্রের রমরমা কারবার নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন