আগরতলা, ০৩ এপ্রিল : আসন্ন ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জিলাপরিষদ (টিটিএএডিসি) নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা একে শুধুমাত্র একটি নির্বাচন নয়, বরং “ইতিহাস গড়ার দিন” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে প্রতিটি আসনে জয়লাভ করবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যা জনজাতি জনগণের দৃঢ় সমর্থনেরই প্রতিফলন।
এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে কাঠালিয়া-মির্জা-রাজাপুর আসনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। সভায় রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তিপ্রা মথা দলের ৫০০-রও বেশি সমর্থকের বিজেপিতে যোগদান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এদের মধ্যে ছিলেন ২০২৩ সালের ধনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তিপ্রা মথা প্রার্থী অমিয় দয়াল নোয়াতিয়া। এই যোগদানকে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অতীত ও বর্তমান শাসনের তুলনা টেনে বলেন, দীর্ঘদিন সিপিএম ও আঞ্চলিক দলগুলি টিটিএএডিসি শাসন করলেও জনজাতি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। অন্যদিকে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনজাতি উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আটজন জনজাতি ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান, সামাজিক পেনশন বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক পরিকাঠামো জোরদার করার মতো উদ্যোগগুলি জনজাতি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এছাড়া ব্রু জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান, সন্ত্রাসবাদ দমনে সফলতা এবং সমাজের মূল স্রোতে প্রত্যাবর্তন—এই সব ক্ষেত্রেও বিজেপি সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে এস. ডি. বর্মনের মূর্তি স্থাপন এবং এমবিবি বিমানবন্দরের নামকরণকেও তিনি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এডিসি এলাকায় দুটি মেডিকেল কলেজ, খুমুলংয়ে একটি নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল কলেজ এবং ২১টি একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
এই নির্বাচনে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও জনজাতি কল্যাণের ইস্যুকেই সামনে রেখে বিজেপি লড়াই করছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এই নির্বাচন শুধুই ভোট নয়, এটি ভবিষ্যতের দিশা নির্ধারণের দিন।”


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন