আগরতলা, ১৫ জুন : কন্যা সন্তানের উন্নয়নই পরিবারের, সমাজের এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্য ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চাবিকাঠি—এই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সোমবার আগরতলার শিশু বিহার স্কুলে আয়োজিত ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন মহিলারা শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে এগিয়ে যাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নারী উন্নয়নমুখী ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “মহিলাদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের 'বেটি বাচাও বেটি পড়াও' কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্য সরকারও নারী ক্ষমতায়নে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে কন্যা সন্তানদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে সাইকেল, স্কুটি সহ বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে স্কুলছাত্রীদের ড্রপ-আউটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের মেয়েদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে তারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম।”
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ১,৭২৭টি বিদ্যালয়ে গুণগত শিক্ষার পাশাপাশি মেয়েদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন নতুন কলেজ ও আবাসিক হোস্টেল নির্মাণ, এবং জিবি হাসপাতালে মা ও শিশুদের জন্য ১০০ শয্যার আধুনিক পরিষেবা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে মহিলাদের উৎসাহ দিতে ৫০ শতাংশ স্টল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্য সুস্থ ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে স্মার্ট ক্লাসে রূপান্তরের পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে “নেশামুক্ত ত্রিপুরা” গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মোট ৪১,৮০০ জন ছাত্রীকে সাইকেল প্রদান করা হবে, যার জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১২টি বিদ্যালয়ের ১২ জন ছাত্রীকে বাইসাইকেল তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য কন্যা শিক্ষার প্রসার ও নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অসীম সাহা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিকর্তা হর্ষিতা বিশ্বাস এবং ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন