সোনাই দেব, ৪ জুলাই : ত্রিপুরার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথমবারের মতো চালু হলো আগরতলা-করিমগঞ্জ-আগরতলা মেমো (ইলেকট্রিক) ট্রেন পরিষেবা। এই পরিষেবার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
শনিবার বাধারঘাটস্থিত আগরতলা রেলস্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ত্রিপুরাই প্রথম রাজ্য যেখানে এই ধরনের মেমো (ইলেকট্রিক) ট্রেন পরিষেবা চালু হলো। ফলে দিনটি রাজ্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র ফলে ত্রিপুরা-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল যোগাযোগ, সড়ক, বিমান ও অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেছে। একসময় যে রাজ্য রেল যোগাযোগের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল, আজ সেই ত্রিপুরা দ্রুত আধুনিক রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাজ্যে ডাবল রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যেই তার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।
ত্রিপুরার রেল ইতিহাসের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৪ সালে রাজ্যে প্রথম রেল যোগাযোগের সূচনা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল সম্প্রসারণকে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করার পর উন্নয়নের গতি বাড়ে। এর ফলেই ১৯৯০ সালে ধর্মনগর থেকে কুমারঘাট এবং ২০০৮ সালে আগরতলা পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় আগরতলা রেলস্টেশনকে বিশ্বমানের আধুনিক স্টেশনে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা, আরামদায়ক যাতায়াত এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রাজ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের প্রয়োজন ও সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই ইলেকট্রিক মেমো ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনও আন্দোলন বা দাবির প্রেক্ষিতে নয়, বরং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যও। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের লামডিং ডিভিশনের ডিআরএম সমীর লোহানী, পরিবহণ দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিরা সবুজ পতাকা নেড়ে আগরতলা থেকে করিমগঞ্জগামী মেমো (ইলেকট্রিক) ট্রেনটির যাত্রার শুভ সূচনা করেন। নতুন এই ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রিপুরার রেল অবকাঠামোর ধারাবাহিক উন্নয়ন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করবে না, বরং বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দেবে। আগরতলা-করিমগঞ্জ মেমো ট্রেনের সূচনা সেই অগ্রযাত্রারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
Indus Water Treaty : সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের প্রতিবাদে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত, অবস্থানে অনড় ভারত


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন