Health Care : জিবিপি হাসপাতালে জীবনরক্ষায় প্রথমবার ‘একমো’ চিকিৎসা - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Health Care : জিবিপি হাসপাতালে জীবনরক্ষায় প্রথমবার ‘একমো’ চিকিৎসা

Share This


 আগরতলা, ২৫ আগস্ট : ত্রিপুরার চিকিৎসা পরিষেবায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক রচিত হলো। রাজ্যে প্রথমবারের মতো আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (এজিএমসি) ও জিবিপি হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সার্জারি (সিটিভিএস) বিভাগে এক্সট্রাকর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন (ECMO) প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট এক প্যারাকুয়েট বিষক্রিয়ায় গুরুতর অসুস্থ ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর জীবন বাঁচাতে এই জটিল ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন চিকিৎসকরা।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী ‘প্যারাকুয়েট’ নামের অত্যন্ত বিষাক্ত আগাছানাশক পান করেছিলেন। এই বিষ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, বিশেষ করে ফুসফুস ও কিডনিকে দ্রুত অকেজো করে দেয়। বিষক্রিয়ার ফলে তাঁর ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং পরিস্থিতি অনেকটা কোভিড-পরবর্তী জটিল ফুসফুস আক্রান্ত রোগীদের মতো হয়ে ওঠে।


প্রথমে রোগীকে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে সিটিভিএস বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। ভেন্টিলেটরেও যখন পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হচ্ছিল না, তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দ্রুত ECMO প্রযুক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। এই পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে কৃত্রিমভাবে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করা হয়, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস কিছুটা বিশ্রাম পেয়ে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।


চিকিৎসকরা জানান, ECMO চালুর পর সারারাত ধরে রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। বর্তমানে রোগীর কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেফ্রোলজি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, প্যারাকুয়েট বিষক্রিয়ায় বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা সাধারণত অত্যন্ত কম হলেও ECMO-এর সহায়তায় রোগীকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


উল্লেখ্য, এই অত্যাধুনিক ECMO চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। যেখানে বেসরকারি হাসপাতালে একই ধরনের চিকিৎসায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি ব্যয় হতে পারে, সেখানে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এই পরিষেবা চালু হওয়া ত্রিপুরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এই  চিকিৎসা অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিটিভিএস বিভাগের সার্জন ডাঃ কনকনারায়ণ ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডাঃ রিমঝিম চাকমা, পারফিউশনিস্ট সুজন সাহু ও সৌরভ ত্রিপুরা, কার্ডিয়াক ওটি টেকনোলজিস্ট রতন মন্ডল, সুদীপ্ত মন্ডল, মিনহাজ উদ্দিন, অভিজিৎ দাস, অর্পিতা সরকার, মৌসুমি দেবনাথ, সৌরভ শীল, আন্না বাহাদুর জমাতিয়া, তন্ময় ঘোষ, সাগর দেবনাথ এবং অঙ্কিতা চক্রবর্তীসহ একটি দক্ষ মেডিক্যাল টিম।





Bhumi Pujan of Medical College : আমবাসার লালছড়ি এলাকায় এইচ পি ঘোষ ম্যামোরিয়্যাল মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad