আগরতলা, ২৯ আগস্ট : সরকারে জনজাতি সমাজ থেকে সবচাইতে বেশি সংখ্যক প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিয়েছেন । বর্তমানে কেন্দ্রে আট জন মন্ত্রী এবং ত্রিপুরায় পাঁচজন মন্ত্রী জনজাতি সম্প্রদায় ভুক্ত। সোমবার খুমুলুঙে বিজেপির জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা । তিনি বলেন, দেশে যখনই সংকট এসেছে, তখনই একজোট হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে জনজাতি সমাজ । তাই প্রধানমন্ত্রী এই সমাজকে সম্মান জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ পদে একজন জনজাতি মহিলাকে বসিয়েছেন। জনজাতিদের উন্নয়ন ও বিকাশের আরেক নাম বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ।
শ্রী নাড্ডা বলেন , বিজেপির শাসনে রাজ্যের শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য , আইন শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে কৃষি , সর্ব ক্ষেত্রেই ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপি শাসনাধীন আমলে ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে । তিনি বলেন, দেশের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে মুখ্য ধারায় যুক্ত হয়ে সমৃদ্ধ করার জন্য ত্রিপুরার ১৯টি জনজাতি সম্প্রদায়ের অবদান অনস্বীকার্য । আত্মনির্ভর সমাজের কল্পনা জনজাতীয় জীবনের সাথে জুড়ে রয়েছে। এই জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের কথা ভেবে, দেশে জনজাতি মন্ত্রণালয় গঠন করার কৃতিত্ব প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খুমুলুঙের জনসভায় ২৫ বছরের বাম শাসন মনে করিয়ে জে পি নাড্ডা বলেন , ভ্রষ্টাচারি , অত্যাচারী বামেরা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটেপুটে খেয়েছিল । ২৫ বছরের বাম শাসনে এই রাজ্যের জনজাতিরা পিছিয়ে পড়েছিল । রিয়াং শরণার্থী সমস্যা সমাধান করেছে কেন্দ্র এবং রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকার । তিনি বলেন , বাম শাসনে কেন উগ্রপন্থার জন্ম হয়েছিল রাজ্যে ? কেন বন্দুক হাতে তুলে নিয়েছিল উপজাতি ভাইয়েরা । এর কারণ একটাই উপজাতিদের দীর্ঘদিন বঞ্চিত করে রেখেছিল বাম সরকার । কিন্তু বর্তমান সরকার মানুষের জন্য কাজ করছে ।
এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন, মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব , প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য প্রমুখ । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক প্রভারী বিনোদ সোনকর , মন্ত্রী রামপদ জমাতিয়া , সান্ত্বনা চাকমা , দিলীপ দাস , তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা সহ অন্যান্যরা।
জনসভার আগে এদিন সকালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা উদয়পুর ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে পুজো দেন । ঘুরে দেখেন গোটা মন্দির চত্বর । কল্যাণসাগর দীঘিতে কিছুটা সময় অতিবাহিত করেন। উদয়পুর যাবার পথে সূর্যমনি নগরে দাঁড়িয়ে তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন । উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য ও রাখেন তিনি।
পরে আগরতলায় প্রদেশ বিজেপির কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মিলিত হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। এতে বর্তমান বিজেপি সরকারের সাড়ে চার বছরের উন্নয়নের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সেই সাথে বিরোধীদের রাজনৈতিক হামলার অভিযোগকে তিনি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এক সময় ত্রিপুরা রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা প্রায় প্রতিদিন ঘটতো । কিন্তু এখন তা নেই । তাছাড়া বর্তমানে রাজ্যে ধর্ষণ , চুরি , ডাকাতির পরিমান হ্রাস পেয়েছে ।
J.P. Nadda : রাজ্যে এলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, অতিথিশালায় করলেন ম্যারাথন বৈঠক



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন