আগরতলা, ০৫ সেপ্টেম্বর : আগামী বছর থেকে রাজ্যে প্রাথমিকস্তর থেকে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়স্তরে তা চালু রয়েছে। সোমবার মহারাজা বীর বিক্রম মহাবিদ্যালয়ের রবীন্দ্র হলে রাজ্যভিত্তিক ৬১তম শিক্ষক দিবসের উদ্বোধন করে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ একথা বলেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, ত্রিপুরা উচ্চশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. অরুণোদয় সাহা, শিক্ষা দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী, বুনিয়াদি শিক্ষা অধিকারের অধিকর্তা চাদনি চন্দ্রন ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন সি শর্মা।
অনুষ্ঠানে অতিথিগণ ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ ও মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিনের অনুষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষিকা ও বিভিন্ন বিদ্যালয়কে অনেকগুলি বিভাগে সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী রাজ্যের শিক্ষক সমাজের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা শিক্ষকদের নিকট একটি চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে উঠবে। এইক্ষেত্রে শিক্ষক সমাজকে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীর কল্যাণে মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি রাজ্যে চালু করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে নিরলস ভাবনা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করতে বলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলাকে উদ্ধৃত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন মেন্ডেলা বলেছিলেন, শিক্ষাই একমাত্র অস্ত্র যা দিয়ে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব।আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়তে গেলে আগামী প্রজন্মের চারিত্রিক গঠনের দিকে শিক্ষককূলকে মনোযোগী হতে হবে। মুঙ্গিয়াকামী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পান্ডবপুর উচ্চবুনিয়াদি বিদ্যালয়ের নিয়মানুবর্তিতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রভৃতির প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ছবি এরকমই হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পিজিআই ইনডেক্সে বর্তমানে রাজ্য অনেকটাই এগিয়ে গেছে। রাজ্যে ২০১৯ সাল থেকে চালু হওয়া ট্রিপল আইটির ১৪ জন ছাত্রছাত্রীই এবছর দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্ল্যাসমেন্ট পেয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারলে চাকরির জন্য ছুটতে হবে না। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা সমাচার নামে স্মরণিকার আবরণ উন্মোচন করেন।
উল্লেখ্য, মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠেয় প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীকে মর্যাদাব্যঞ্জক ভাবে উদযাপনের জন্যই ৬১তম জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজ্যভিত্তিক মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী "রবীন্দ্র সভাগৃহে"। এতে পাঁচ জন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীকে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্মান, মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য সম্মান, মহারাণী তুলসীবতী সম্মান ও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সম্মানে ভূষিত করা হয়।
এছাড়াও মহাবিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের ৪১ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে 'শিক্ষক সম্মাননা ২০২২' দ্বারা সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ৯টি বিদ্যালয় ও ২টি মহাবিদ্যালয়কে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য সেরা বিদ্যালয়/ মহাবিদ্যালয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
Blood Donation Camp : আগরতলার হারাধন সংঘে রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী





কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন