Tribal Welfare Department : মহাকরণে পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী, জনজাতিদের সার্বিক বিকাশে কাজ করছে সরকার - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Tribal Welfare Department : মহাকরণে পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী, জনজাতিদের সার্বিক বিকাশে কাজ করছে সরকার

Share This


 আগরতলা, ০৮ সেপ্টেম্বর : রাজ্যের জনজাতি অংশের জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার মানোন্নয়নে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলি রাজ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রূপায়ণ করা হচ্ছে। জনজাতি অংশের জনগণকে এই প্রকল্পগুলি সম্পর্কে আরও সচেতন করার লক্ষ্যে প্রচারের উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবেই বেশি সংখ্যক জনগণ এইসব প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। বৃহস্পতিবার মহাকরণের ২ নং সভাকক্ষে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা একথা বলেন। 


সভায় জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পরিকাঠামো, সংস্কৃতি ইত্যাদির উন্নয়নে রাজ্য সরকার গুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রীও দেশের জনজাতি অংশের জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজ করছেন যা বিগত দিনে সেভাবে পরিলক্ষিত হয়নি। রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তর যে সমস্ত কাজ করছে তা সংবাদমাধ্যম সহ সামাজিক মাধ্যমেও প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে হবে।


     সভায় জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব পুনীত আগরওয়াল জানান, রাজ্যের জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ এই দুই অর্থবর্ষে আরও ৮টি একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল বিদ্যালয়ের মঞ্জুরি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৩টির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এবং বাকিগুলির জন্য জায়গা চিহ্নিত করে তা নির্মাণ সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে ২৬ হাজার ১৯৪ জন ছাত্রছাত্রীকে বোর্ডিং হাউজ স্টাইপেন্ড প্রদান করা হয়েছে। তাতে ব্যয় হয়েছে ১৮৮৯.৪৮ লক্ষ টাকা। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ২৯ হাজার ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে বোর্ডিং হাউজ স্টাইপেন্ড প্রদান করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দপ্তর। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্প থেকে ৩৩ হাজার ৬৫৪ জন জনজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীকে প্রিমেট্রিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী) স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। ব্যয় হয়েছে ১৩৪.৫৫ লক্ষ টাকা। চলতি অর্থবর্ষে ৩৪ হাজার এসটি ছাত্রছাত্রীকে প্রিমেট্রিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী) স্কলারশিপ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দপ্তর কাজ করছে। এছাড়াও দপ্তরের উদ্যোগে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে এমন ৩৩ হাজার ১২৫ জন জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীকে মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।




      জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব জানান, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ৩২১ জন জনজাতি সম্প্রদায়ের সুবিধাভোগীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তাতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে ২৮ হাজার ৬৭১টি। এছাড়াও অংক, বিজ্ঞান, ইংরেজি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে জনজাতি অংশের ৮,৯৫০ জন ছাত্রছাত্রীকে বিশেষ কোচিং করানো হয়েছে।


      প্রধান সচিব জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ৩০ হাজার ৪৩৫ জন ছাত্রছাত্রীকে পোস্টমেট্রিক স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি অর্থবর্ষে ৩৯ হাজার ৫১৩ জন ছাত্রছাত্রীকে পোস্টমেট্রিক স্কলারশিপ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, রাজ্যের জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বর্তমানে ৪টি ছাত্রাবাসের নির্মাণ কাজ চলছে। সেগুলি হলো- মহিলা কলেজে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট গার্লস হোস্টেল, ঊনকোটি জেলার আম্বেদকর মহাবিদ্যালয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট গার্লস হোস্টেল, ধলাই জেলার গন্ডাতুইসা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বয়েজ হোস্টেল এবং উদয়পুর বালিকা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট গার্লস হোস্টেল। এই হোস্টেলগুলি আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।


     পর্যালোচনা সভায় প্রধান সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী আদি আদর্শ গ্রাম যোজনায় প্রথম পর্যায়ে ধলাই জেলায় ৬২টি গ্রামকে সার্বিক উন্নয়ন করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে প্রতিটি গ্রামের জন্য ২০ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা করে ব্যয় করা হবে। তিনি জানান, রাজ্যের বনজ সম্পদকে ভিত্তি করে শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করতে এবং কারিগরদের উৎসাহিত করতে জনজাতি কল্যাণ দপ্তর রাজ্যে ১২টি বনধন বিকাশ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ৩২টি বনধন বিকাশ কেন্দ্র স্থাপনের মঞ্জুরি দিয়েছে। এছাড়াও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে ১,৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। সভায় এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন, বনাধিকার আইন এবং ট্রাইবেল রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল ইনস্টিটিউট নিয়ে আলোচনা করেন দপ্তরের প্রধান সচিব।


      পর্যালোচনা সভায় জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রামপদ জমাতিয়া, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।




Badminton Championship : এনএসআরসিসি'র ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ৪ দিনব্যাপী উত্তর-পূর্বাঞ্চল আন্তঃরাজ্য উন্মুক্ত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad