নতুন দিল্লি, ২৫ এপ্রিল : লোকসভার বিরোধী নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী আজ জম্মু-কাশ্মীর গেছেন। হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের কাছে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি আবারও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যেকোন সিদ্ধান্তে ভারত সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
এদিকে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে, অনন্তনাগ জেলার বীজবেহেরায়, দুই জঙ্গীর বাড়ি ধংস করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল গভীর রাতে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গী আসিফ শেখের বাড়িতে বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়। অন্যদিকে আরেক জঙ্গী আদিল হুসেনের বাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আদিল ২০১৮ সালে আটারি ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিল। গতবছর সে জম্মু ফিরে আসে।
অপরদিকে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানী নাগরিকদের জারি করা ভিসা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একদিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ আজ সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজ্যে থাকা পাকিস্তানী নাগরিকদের চিহ্নিত করার জন্য বলা হয়েছে। সূত্রের খবর ওই সব পাক নাগরিকদের দ্রুত সেদেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রীদের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছে শ্রী শাহ্। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে নতুন দিল্লিতে একটি বৈঠক করবেন। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল এবং অন্যান্য বরিষ্ঠ আধিকারিকরা এতে যোগ দেবেন।
জম্মু-কশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা-র পৌরোহিত্যে শ্রীনগরের রাজভবনে আজ এক নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের জিওসি ইনসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম ভি সুচিন্দ্র কুমার সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রতীক শর্মা এবং ফিফটিন কোড়ের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রশান্ত শ্রীবাস্তব বৈঠকে উপস্হি্ত ছিলেন।
কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে শোকের আবহ অব্যাহত রয়েছে বেশজুড়ে। দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় আজ বন্ধ ডাকে ব্যবসায়ীদের সংগঠন। ৯০০ এর বেশি দোকানপাট বন্ধ। পহেলগাঁও এ সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দিল্লি জুড়ে বিভিন্ন বাজার বন্ধ রয়েছে। ‘কনফিডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স’- CAIT জানিয়েছে, কোনো প্রতিবাদ হিসেবে নয়, সরকারের পাশে দাঁড়াতেই তাদের এই কর্মসূচী।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গত ২২ এপ্রিল কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ধর্ম চিহ্নিতকরণের পর সন্ত্রাসবাদীরা ২৮ জন পর্যটককে যেভাবে হত্যা করেছে তার তীব্র নিন্দা করে সমবেদনা প্রকাশ করেছে। উপত্যকায় ছুটিতে বেড়াতে গিয় যেভাবে নিরস্ত্র ও সাধারণ নাগরিকরা আক্রমণের নিশানা করা হয়েছেন, কমিশন তার তীব্র নিন্দা করেছে। কমিশন বলেছে যে এই ঘটনা মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রাখা প্রত্যেক ব্যক্তির অন্তরাত্মাকে নাড়িয়ে দিয়েছে যা নিহত, আহত ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মানবাধিকার উলঙ্ঘনের একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
কমিশন বলেছে যে বিভিন্ন মঞ্চে বারবার বলা হচ্ছে যে সন্ত্রাসবাদ বিশ্বে বিবিধ মানবাধিকার উলঙ্ঘনের সবচাইতে বড় কারণগুলির অন্যতম। যারা সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ যোগায় এবং সমর্থন করে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এই আক্রমণের সঠিক প্রত্যুত্তর দেওয়ার সময় এসে গেছে, না হলে এ ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রকে সঙ্কুচিত হতে, ধমক, প্রতিশোধ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্ভাব বজায় রাখতে, তাঁদের জীবনে স্বতন্ত্রতা, সাম্য, বন্ধুত্ব এবং পেশার অধিকার সহ বিভিন্ন মানবাধিকারকে গভীরভাবে উলঙ্ঘন করতে পারে। কমিশন আশা ব্যক্ত করেছে যে রাজ্য সঠিক প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে; অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে এবং আক্রান্ত পরিবারগুলিকে যথাসম্ভব সাহায্য প্রদান করবে।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন