![]() |
| আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। |
আগরতলা, ৭ অক্টোবর : আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিজেপির ডাকা বিক্ষোভ মিছিল থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদলের দাবি, তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন—কোনও হামলাই হয়নি, বরং কিছু ক্ষুব্ধ যুবকের অনিয়ন্ত্রিত আচরণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজেপির বিক্ষোভ মিছিলের আড়ালে তাদের আগরতলার রাজ্য কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে পুলিশের উপস্থিতিতেই। তাদের অভিযোগ, এই হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। তৃণমূলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ত্রিপুরার কার্যালয়ে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হামলা গণতন্ত্রকে ধ্বংসের চেষ্টারই অংশ। বিজেপি মুখে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ বললেও বাস্তবে একের পর এক রাজ্যে তা ভেঙে দিচ্ছে।”
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ছ’সদস্যের এক প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, সায়নী ঘোষ, মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, কুণাল ঘোষ এবং টিএমসিপি নেতা সুদীপ রাহা প্রমুখ।
অন্যদিকে, ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির বক্তব্য, মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর পশ্চিমবঙ্গে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার আগরতলার বনমালিপুর এলাকায় সদর আরবান মণ্ডলের পক্ষ থেকে এক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল চলাকালীন কিছু উত্তেজিত যুবক আক্রমণের চেষ্টা করলে যুব মোর্চার সভাপতি সুশান্ত দেব তা রোধ করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু বহিরাগত যুবক তৃণমূল কার্যালয়ের কয়েকটি ফুলের টব ও ফ্লেক্স ভাঙচুর করে, কিন্তু তাতে সংগঠিত কোনও হামলার প্রশ্ন ওঠে না।
ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনার জেরে জাতীয় স্তরে বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন