Seminar Cum Workshop : প্রজ্ঞাভবনে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা- শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালার উদ্বোধন - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Seminar Cum Workshop : প্রজ্ঞাভবনে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা- শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালার উদ্বোধন

Share This

 


আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারি : আমাদের দেশের সংবিধান কেবল একটি আইনি পাঠ্য নয়, এটি একটি পথপ্রদর্শক, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য সমতা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। আমাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রতি কর্তব্য পালন করা। আজ আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে সমস্ত অংশের মানুষের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা- শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালার উদ্বোধন করে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু একথা বলেন। 


অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বলেন, আজকের কর্মশালার বিষয় সকল শ্রেণির জনগণের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা কেবল আলোচনার বিষয় নয়, এটি কার্যকর গণতন্ত্রের একটি ভিত্তি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সংবিধানের উল্লেখিত ন্যায় অধিকার প্রতিটি নাগরিককে প্রদান করা। সমাজের কৃষক, জনজাতি সম্প্রদায়ের জনগণ, মহিলা, যুবক, প্রত্যেকের ক্ষমতায়নের জন্য আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, দায়িত্ববোধ বলতে বোঝায় যে আপনি একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হলেও আপনার কর্তব্য সমগ্র রাজ্য এবং জনগণের জন্য সমর্পিত।  তিনি বলেন, রাজ্যে নারী ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই বর্তমানে রাজ্যে বহু মহিলা লাখপতি দিদি হিসেবে তৈরি হয়েছেন। এছাড়াও রাজ্যের ১ লক্ষের উপর মহিলা এন্ট্রাপ্রেনার হয়ে উঠেছেন।


অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, জনগণের সম্মান রক্ষা, ব্যক্তিগত আচরণে শালীনতা বজায় রাখা, সমস্যায় মানুষের পাশে থাকা এবং কাজের প্রতি পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয়। জবাবদিহিতাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে আরও স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্যে আজকের এই উদ্যোগ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই একজন জনপ্রতিনিধির সর্বোচ্চ অঙ্গীকার। নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত মজবুত হলেই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের মর্যাদা ও গৌরব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গৌরব রক্ষা ও একে আরও সুদৃঢ় করা প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। 


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত আজ ডিজিটাল ইন্ডিয়া যুগে এসে পৌঁছেছে। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করার বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সরকারি পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থাপন করলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়। মুখ্যমন্ত্রী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সি.পি.এ.) কার্যপ্রণালী ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি সি.পি.এ-র কার্যপ্রণালীর উপরও আলোকপাত করেন। মুখ্যমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের নিজ এলাকায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।


অনুষ্ঠানে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবল্স নারায়ণ সিং বলেন, সি.পি.এ. ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা সংসদীয় গণতন্ত্র, সুশাসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। এর মূল কাজ হলো জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা পরিচালনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলা। সিপিএ-র অন্যতম উদ্দেশ্য আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সেই অর্থে আজকের এই আয়োজন খুবই প্রাসঙ্গিক। জনগণের প্রকৃত উন্নতি তথা জীবনশৈলীর উন্নতির স্বার্থে এই উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কাজে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধিদের উচিত মানুষের আস্থা অর্জন করা। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের কার্যপ্রণালির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সবাই মিলে রূপায়ণ করা উচিত। তবেই প্রকৃত অর্থে জনগণের উপকার হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনকল্যাণে জনপ্রতিনিধিদের নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ কৃতী দেবী সিং দেববর্মা বলেন, জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধিদের সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়ে উঠে। আসাম থেকে নির্বাচিত সাংসদ পরিমল শুরু বৈদ্য বলেন, এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত রূপায়ণের কাজে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


স্বাগত বক্তব্যে রাজ্য বিধানসভার সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায় বলেন, ত্রিপুরার জন্য আজ খুবই গর্বের দিন। তিনি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার সঙ্গে মানুষের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এতেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।


বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, আজকের এই উদ্যোগ বর্তমান সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। গণতন্ত্র রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর বার্তা পাঠ করে শোনান বিধায়ক সুদীপ সরকার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল।


অনুষ্ঠানে মঞ্চে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য্য, কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ, পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধানসভার সচিব অমিয় কুমার নাথ প্রমুখ। আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ছাড়াও বিভিন্ন জিলা পরিষদের সভাধিপতি, টি.টি.এ.এ.ডি.সি.-র সিইএম, টি.টি.এএডি.সি-র সদস্য-সদস্যা, পুরনিগমের কর্পোরেটরগণ সহ পঞ্চায়েত এবং ব্লকস্তরের জনপ্রতিধিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।






Cabinet Disition : নারীদের জন্য নতুন প্রকল্প 'নারী আদালত'- দুই দপ্তরে নিয়োগ হবে ৪৮টি পদে




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad