আগরতলা, ১২ এপ্রিল : ত্রিপুরা জনজাতি এলাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনে এবারে রেকর্ড ভোটদানের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটদানের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আজ অনুষ্ঠিত টিটিএএডিসি নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটদানের হার উৎসাহব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরেছে। দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১-দামছরা-জম্পুই কেন্দ্রে প্রায় ৩৫%, ৩-দশদা-কাঞ্চনপুরে ৪১%, ২-মচমছড়ায় ৪১%, ৪-কৃষ্ণচন্দ্রপাড়া কেন্দ্রে ৪৩% এবং ৫-চাওমনু কেন্দ্রে ৪৫% ভোট পড়েছে। এছাড়া ৬-মনু-ছৈলেংটা কেন্দ্রে ৪২%, ৭-দেমছড়া-কাচুচড়া কেন্দ্রে ৪৭%, ৮-গঙ্গানগর-গন্ডাছড়ায় ৪৪% এবং ৯-রাইমা ভ্যালিতে ৪৪% ভোটদানের হার লক্ষ্য করা গেছে। ১০-কুলাই-চাম্পাহাওড়, ১২-রামচন্দ্রঘাট এবং ১৯-অমতলি-গোলাঘাটি কেন্দ্রে প্রায় ৪৭% ভোট পড়েছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে ১১-মহারানীপুর-তেলিয়ামুড়া কেন্দ্রে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০% ভোট রেকর্ড হয়েছে। ১৪-বোধজুঙ্গনগর-ওয়াকিনগর, ১৬-মন্দাইনগর-পলিনপুর, ১৭-পেকুয়ারজলা-জামেজয় নগর, ১৮-টাকারজলা-জম্পুইজলা, ২০-কিল্লা-বগমা, ২২-কাথালিয়া-মির্জা-রাজপুর ও ২৭-পূর্ব মহুরীপুর-ভুরাতলীসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ৪৬% থেকে ৪৯% পর্যন্ত ভোট পড়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত গড় ভোটদানের হার প্রায় ৪৫% এর কাছাকাছি, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের নির্বাচনে ভোটের হার নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে কড়া নজরদারি রাখছে পুলিশ প্রশাসন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে এই উচ্চ ভোটদানের হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১২ নং কুলাই-চাম্পাহাওড় কেন্দ্রের তুলাশিখর-রাজনগর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। তিনি নিজেকে প্রথম ভোটার হিসেবে দাবি করে বলেন, এই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
অন্যদিকে, ২৭ নং পূর্ব মহুরীপুর-ভুরাতলী কেন্দ্রেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৯/৪৪ নং বুথে ভোট দেন মনু বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মাইলাফ্রু মগ। একইভাবে, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীও ভোট প্রদান করেন সাব্রুম এলাকার এক বুথে। তিনি জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং মানুষ উৎসবের আবহে ভোট দিচ্ছেন।
এদিকে, রামচন্দ্রঘাট কেন্দ্রের একটি বুথে বিরোধী পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও, কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দ্রুত বিকল্প মেশিন এনে ভোট প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হয়।
১৩ নং সিমনা-তমাকরি কেন্দ্রে তিপ্রামথা দলের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা পরিবারসহ ভোট দেন এবং জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও জনজাতি অধিকার রক্ষার বার্তা দিয়ে ভোটারদের উৎসাহিত করেছেন।
৩ নং দশদা-কাঞ্চনপুর কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী রমাকান্ত নাথ ভোট দেওয়ার পর সকলকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণের সমর্থন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বুবাগ্রা প্রদ্যুৎ মাণিক্য দেববর্মা জনজাতি জনগণের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তায় বলেন, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, এবারের এডিসি নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভোটদানের হার নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে বলে জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন