আগরতলা, ০২ জুলাই : ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী উৎসব খার্চি পূজা । প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লঅষ্টমী তিথিতে পুজো শুরু হয়। ওই দিন সকালে হাওড়া নদীর মন্দিরঘাটে চৌদ্দ দেবতার স্নানের মধ্য দিয়ে খার্চি উৎসবের সূচনা হয় ৷ সম্পূর্ণ রাজকীয় সম্মানে, পুলিশী ব্যান্ডের মাধ্যমে রাজ চন্তাই সেখানে চৌদ্দ দেবতার স্নান কার্যাদি সম্পন্ন করেন৷ স্নান যাত্রার আগে প্রথা অনুযায়ী লাম্প্রা পূজা হয়৷
এরপর স্নান যাত্রার জন্য মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে দেবতাদের নিয়ে এক শোভাযাত্রা মন্দিরঘাট পর্যন্ত যায়৷ উৎসাহী মানুষের ভীড়ে চৌদ্দ দেবতার মন্দির উৎসব মুখর হয়ে উঠে৷ উদ্বোধনের সকালের এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য রাস্তার দুই পারে অগণিত মানুষের জমায়েত ঘটে৷
চতুর্দশ দেবতার কোন অবয়ব নেই। শুধুমাত্র তাঁদের মুখ পুজো করা হয়। তাঁরা হলেন— হর বা শিব প্রধান দেবতা, উমা বা দুর্গা, হরি, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কুমার বা কার্তিক, গণেশ, ব্রহ্মা, পৃথিবী, সমুদ্র, গঙ্গা, অগ্নি, কামদেব, হিমাদ্রি। পুজোর পুরোহিতকে চন্তাই বলা হয়। চন্তাইকে রাজার প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৪৯ সাল থেকে চুক্তি অনুযায়ী পুজো খরচ সরকার বহন করে।
এবছর ১৪ দেবতার পূজো ও খার্চি উৎসবের শুরু হবে ৭ই জুলাই থেকে । ইতিমধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন ও খার্চি মেলা কমিটি থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে । মেলাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দিন-রাত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, মেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী।
দু'বছর কোভিড অতিমারির কারণে খার্চি মেলা কে কেন্দ্র করে আনন্দে গা ভাসাতে পারেনি রাজ্য ও বহিঃ রাজ্যের ভক্ত প্রাণ লাখো মানুষ। এ বছর সবাই মুখিয়ে রয়েছেন ৭ই জুলাইয়ের অপেক্ষায়, সেদিন থেকে মেতে উঠবেন সবাই খার্চি উৎসবের আনন্দে।
Rath Yatra 2022 : রাজ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনার রথে বিষাদের ছায়া, রথের চূড়া ভেঙে ও রথ উল্টে আহত ১১


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন