আগরতলা, ০২ জুলাই : বন্যা ও ভূমিধসের ফলে দুর্গতদের উদ্ধারকাজে নেমে মৃত্যু হল দেশের ৮২ জন সেনার। এর মধ্যে রাজ্যের বীর সন্তান রয়েছেন দুইজন । জানা গেছে , মণিপুরে গত ২৮ জুনের পর শনিবার আচমকায় আবারও ভূমির রহস নামে । এই আলাদা দুটি ভূমি ধসেই মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের দুই জওয়ানের । তারা ইন্ডিয়ান আর্মিতে কর্মরত ছিলেন । এদের মধ্যে একজন সঞ্জয় দেবনাথ , বাড়ি বিশালগড় থানা এলাকায় । অন্যজন প্রশান্ত কুমার দেব , বাড়ি এডিনগর এলাকায় । শহিদ প্রশান্ত’র আদি বাড়ি কল্যাণপুরে । এদিকে এই ভারতীয় সেনার শহীদ হওয়ার খবর কল্যাণপুরে ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক শোকের আবহ তৈরি হয়েছে । জানা গেছে আজ সন্ধ্যায় কফিন বন্দি মৃতদেহ আসছে রাজ্যে ।
এদিকে , মণিপুরের তামিলনং জেলার নোনে এলাকায় গত ২৮ জুনের ধ্বসে শনিবার সকালে শহীদ হন ভারতীয় সেনার টেরিটোরিয়াল আর্মি তথা ১০৭ নং ব্যাটেলিয়নের জওয়ান ত্রিপুরার বিশালগড়ের বীর সন্তান সঞ্জয় দেবনাথ । খবরে প্রকাশ গত ২৮ শে জুন রাতে আচমকায় মনিপুরে মাটির ধস পড়েছিল । আর সেই মাটির ধসে শনিবার সকালে শহীদ হয় বিশালগড় বাইদ্যারদীঘি এলাকার যুবক তথা সঞ্জয় দেবনাথ । জানা যায় ঘটনার দিন থেকেই পরিবারের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । শনিবার সকালে ফোনের মাধ্যমে বাড়িতে সঞ্জয় দেবনাথ’র শহীদ হওয়ার খবর আসে । আর সেই খবর শোনা মাত্রই শনিবার সকাল থেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পরিবারের লোকেরা । ২০০৬ - এ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজে যোগ দিয়েছিলেন সঞ্জয় । বাড়িতে স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের পুত্র সন্তান সহ আছেন মা - বাবা , ভাই - বোন ।
আঠাশ জুনের ঘটনার দিন থেকেই ধস কবলিত এলাকাগুলি সরেজমিনে খতিয়ে দেখছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। এই ধস রাজ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এন বীরেন সিং বলেন, "রাজ্যের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এখনও পর্যন্ত আমরা ৮১ জন সহনাগরিককে এই ধসে হারিয়েছি। ১৮ জন সেনা জওয়ানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও ৫৫ জন নিখোঁজ। এখনও আরও দু'থেকে তিনদিন সময় লাগবে বলে অনুমান।"
Kharchi Puja 2022 : ৭ জুলাই থেকে শুরু ঐতিহ্যবাহী খার্চি উৎসব, চলছে শেষ তুলির টান


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন