আগরতলা, ২৩ জুন : পূর্ব শত্রুতার জেরে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আমতলি থানার অন্তর্গত কাঁঠালতলী এলাকায় এক বিবাহিত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মৃত যুবকের নাম সমীর দাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার স্বপন সূত্রধর ওরফে সপ্পার সঙ্গে তার বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে নিজের স্কুটিতে বাড়ি ফেরার পথে কাঁঠালতলী শনি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় তার পথরোধ করা হয়। এরপর তাকে স্কুটি থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সমীর দাস এবং তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন এবং খবর দেওয়া হয় আমতলি থানায়।
খবর পেয়ে ওসি পরিতোষ দাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল ও ডগ স্কোয়াডও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ মূল অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযুক্তের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক এক নির্দেশ জারি করে কাঁঠালতলী এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় ২৩ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রিত হতে পারবেন না, অস্ত্রসহ বা অস্ত্র ছাড়াই। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জরুরি সরকারি কাজ এবং চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন