Durga Puja Carnival : মায়ের গমন অনুষ্ঠান বিজয়া দশমীর বিসর্জনের পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে দিল - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Durga Puja Carnival : মায়ের গমন অনুষ্ঠান বিজয়া দশমীর বিসর্জনের পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে দিল

Share This


 সুজিত ঘোষ ।। আগরতলা, ১১ অক্টোবর : দিনটি ছিল ৭ অক্টোবর, ২০২২। আলপনায় সুসজ্জিত আগরতলার সিটি সেন্টারের সম্মুখের রাজপথ। মায়ের গমন অনুষ্ঠানের সুসজ্জিত উদ্বোধনী মঞ্চ আর আগরতলার পোস্ট অফিস চৌমুহনি থেকে দশমীঘাট পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি। এই চিত্র ফিরিয়ে দিয়েছিল বিজয়া দশমীর বিসর্জনের সত্তর দশকের চিত্র। অপেক্ষার প্রহর গুণতে শুরু করেছিল ত্রিপুরার প্রত্যেকটি হৃদয়। বছর ঘুরে দুর্গা মায়ের আগমন, সেই মাকে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে বিদায় জানাতে মানুষের উচ্ছ্বাসের কোনও খামতি ছিলনা। উৎসবের দিনগুলিতে আঁধার ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রঙবেরঙের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে নতুন সাজে সেজে উঠেছিল আগরতলা। আগরতলার রাজপথ তখন জনসমুদ্রে পরিণত। একদিকে ঢাকের বাজনা অন্যদিকে ত্রিপুরার শিল্পীদের পরিবেশনায় রাজ্যের ঐতিহ্যময় চিরন্তন মিশ্র সংস্কৃতিকে তুলে ধরার অনবদ্য প্রয়াস। হজাগিরি, মামিতা থেকে ধামাইল ত্রিপুরার বৈচিত্রময় সংস্কৃতির আবেশের মধ্যে ঐক্যের সুর ধ্বনিত হয়েছিল সেদিন। মায়ের গমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব সংস্কৃতির ধারায় সংযোজিত হলো নতুন ইতিহাস। ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আয়োজনে আগরতলা শহরের বুকে এধরনের অনুষ্ঠান এই প্রথম। গত দুই বছর করোনা অতিমারি পর্ব কাটিয়ে সবার চোখ ছিল মায়ের গমন অনুষ্ঠানটির দিকে। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবা সবধরনের ব্যবস্থাই ছিল আপামর জনগণের জন্য।




দ্বাদশীর সন্ধ্যায় বর্ণময় ‘মায়ের গমন' অনুষ্ঠান পর্বের সূচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে এছাড়া অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ আধিকারিকগণ সহ নানা পেশা নানা ধর্মের মানুষ। মায়ের গমন অনুষ্ঠানের সূচনার পর প্যারাডাইস চৌমুহনীস্থিত সিটি সেন্টারের সামনে মায়ের গমন অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনে দিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সুসজ্জিত ট্যাবলোর মাধ্যমে একের পর এক বিভিন্ন ক্লাবগুলি তাদের প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল। যার মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমির প্রতিমা বিসর্জনের এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছিল। মায়ের গমনে শহরের পরিচিত বনেদী ক্লাবগুলির পুজোর পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম বাজেটের পুজো ও অন্যান্য শিল্পীদের শৈল্পিক কাজের নিদর্শনও উঠে এসেছিল।




রাত যত বাড়তে থাকল জাতপাত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল অংশের মানুষ একে অপরের সাথে মিলে মিশে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন। মায়ের গমনের এক একটি স্মরনীয় মুহুর্তকে নিজের ক্যামেরা বা মোবাইলে বন্দি করে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন আগরতলার রাজপথে উপস্থিত অগনিত দর্শনার্থী। সাড়া জাগানো এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুর্গা মায়ের বিদায়ের এই বিষাদ লগ্নে মানুষের হৃদয়ে যে এক অনাবিল আনন্দঘন মুহুর্তের উপহার দিয়ে গেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। দপ্তরের মন্ত্রী, অধিকর্তা, আধিকারিকগণ সহ সহযোগী অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় মায়ের গমন অনুষ্ঠানটি সেদিন এক ঐতিহাসিক রূপ নিয়েছিল। সরকারি উদ্যোগে নতুন চিন্তা চেতনায় বিজয়া দশমীর বিসর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে এই আয়োজন সত্যিকার অর্থে এক নতুন দৃষ্টান্ত। এদিন মায়ের গমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী প্রতিটি ক্লাবকে শংসাপত্র প্রদান করা হয়।




দুর্গাপুজা আমাদের চিরন্তন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিকগুলি যেমন আলোকিত করে তেমনি শান্তি ও ঐক্যের বার্তাও বহন করে। সাংস্কৃতিক চর্চা কিংবা দুর্গাপুজা আয়োজনের দিক থেকে ত্রিপুরা যে অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়, তা রাজ্য সরকারের মায়ের গমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল। মায়ের গমন অনুষ্ঠান বিজয়া দশমীর বিসর্জনের পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে দিল।




President’s Tripura Visit : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দু'দিনের রাজ্য সফরে বিস্তারিত সূচি জানালেন জেলাশাসক

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad