আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর : সোমবার প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত ৫৮তম ইঞ্জিনীয়ার্স ডে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তুলে রাজ্য ও দেশকে উন্নয়নের সঠিক পথে নিয়ে যেতে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অপরিসীম। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে রাজ্যকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ আজ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে। ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, যা দেশের গর্বের বিষয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরা সরকারও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বিধানসভা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত ই-অফিস পরিষেবা চালু হয়েছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের কাজ চলছে। শীঘ্রই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ডাটা সেন্টার এয়ারটেল ত্রিপুরায় স্থাপন করতে চলেছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মুখ্যমন্ত্রী ইঞ্জিনীয়ারদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, রাজ্যের উন্নয়নে তারা আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশাবাদী।
অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী ও অতিথিরা প্রজ্ঞাভবন সংলগ্ন রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, যিনি প্রকৌশলীদের নতুন নতুন ভাবনার মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়নে স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করার আহ্বান জানান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনীয়ার্স ত্রিপুরা শাখার চেয়ারম্যান পরমানন্দ সরকার ব্যানার্জী এবং পূর্ত দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার রাজীব দেববর্মা।
‘ডিপ টেক এন্ড ইঞ্জিনীয়ারিং এক্সিলেন্স: ড্রাইভিং ইন্ডিয়াস টেকহেড’ বিষয়ে বিশেষ বক্তৃতা দেন এনআইটি আগরতলার ডিরেক্টর ড. এস কে পাত্রা। এদিন রাজ্যের বিশিষ্ট প্রকৌশলী সুশান্ত দত্তকে ‘ইঞ্জিনীয়ার অব দি ইয়ার ২০২৫’ সম্মান প্রদান করা হয়। দিনটি উপলক্ষ্যে সকালে প্রভাতফেরী এবং ক্যান্সার হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে ফল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন