আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: প্রজ্ঞাভবনে আজ অনুষ্ঠিত হল আদি কর্মযোগী অভিযানের অন্তর্গত রাজ্যস্তরীয় ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ও স্টেট প্রসেস ল্যাবস-এর উদ্বোধন। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা অনুষ্ঠানে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বদা সরকারি কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, ১০ জুলাই ২০২৫-এ বিকশিত ভারত অভিযানের অংশ হিসেবে আদি কর্মযোগী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের লক্ষ্য জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে সরকারের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, ক্ষমতায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই অভিযানে আদি কর্মযোগী, আদি সহযোগী ও আদি সাথী – এই তিন শ্রেণিতে প্রশিক্ষিত ক্যাডার তৈরি হবে। প্রতি গ্রামে আদি সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যা নাগরিকদের জন্য সিঙ্গেল উইন্ডো পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। স্টেট প্রসেস ল্যাবে মাস্টার ট্রেনার, ফ্রন্টলাইন কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৬-১৯ সেপ্টেম্বর জেলা মাস্টার ট্রেনারদের আবাসিক প্রশিক্ষণ হবে এবং ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রসেস ল্যাব আয়োজন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযানে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৪০৩৬টি শিবির হয়েছে, যেখানে ১২ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। জনজাতি কল্যাণে ৮১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আগামী ৫ বছরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। জনজাতি সমাজপতিদের মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড, স্কলারশিপ, বিনামূল্যে পাঠ্যবই, কোচিং, মেধা পুরস্কার সহ নানা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, রাবার চাষ এলাকা ৬৯ হাজার হেক্টরে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর এলাকায় রাবার বাগান হয়েছে। রাজ্যে ৫০টি স্মোক হাউস ও ২৫টি রাবার প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া ৫০০ বেকার জনজাতি যুবককে ই-অটোরিক্সা দেওয়া হবে এবং সুপার-১০০ প্রোগ্রামে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সচিব ড. কে শশী কুমার, যুগ্ম সচিব টি. রৌমান পাইতে ও অধিকর্তা শুভাশিষ দাস বক্তব্য রাখেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন