![]() |
| বুধবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে রাজ্যভিত্তিক ‘স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৫’ কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। |
আগরতলা, ১৭ সেপ্টেম্বর : স্বচ্ছতা অভিযান শুধুমাত্র একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে রাজ্যভিত্তিক ‘স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৫’ কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। এদিন তিনি বলেন, সমাজ ও পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি নাগরিককে এ ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ হতে হবে। সকলে একযোগে অংশ নিলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও নির্মল রাজ্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই ২০১৪ সাল থেকে সারা দেশে স্বচ্ছতা হি সেবা কর্মসূচি চালু হয়েছে। সেই উদ্যোগকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে রাজ্যের ৩৩৪টি আরবান ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পাশাপাশি ৮৫টি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ ইউনিট, ২০টি নগর এলাকায় ৬৩৫টি কমিউনিটি টয়লেট এবং ১২৭৭টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২২ হাজারেরও বেশি পরিবারকে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকায় স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে ৭৬৫টি গ্রাম ওডিএফ প্লাস মর্যাদা অর্জন করেছে। ৫ লক্ষ ১ হাজার ২৩২টি পরিবারের জন্য শৌচাগার এবং ৫৯০টি কমিউনিটি শৌচাগার নির্মিত হয়েছে। প্লাস্টিক দূষণ রোধে ৫টি প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং আরও ১৩টি ইউনিট নির্মাণের কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফাই কর্মীদের সমাজ ও পরিবেশ রক্ষার কারিগর হিসেবে অভিহিত করে তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ, যিনি বলেন স্বচ্ছতা উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তিনি পরিচ্ছন্ন, রোগমুক্ত ও নেশামুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এদিন আগরতলা পুরনিগম সহ বিভিন্ন মহকুমার সাফাই কর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব কুন্তল দাস, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার, নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের অ্যাম্বাসেডর পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্ত দপ্তরের সচিব ব্রিজেশ পান্ডে। উপস্থিত সবাই স্বচ্ছতার শপথ গ্রহণ করেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন