North-East Frontier Railway : আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগের কাজ অতি আনতে নর্থ-ইষ্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

North-East Frontier Railway : আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগের কাজ অতি আনতে নর্থ-ইষ্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক

Share This


 আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর : মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজ্যের রেল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার আনসুল গুপ্তার সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। সভায় লামডিং থেকে আগরতলা পর্যন্ত ডাবল লেন ট্র্যাক চালু সহ রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এই সমস্ত বিষয়ে নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সভায় জি এম এম এন এফ রেলওয়ে জানিয়েছেন। ধর্মনগর থেকে আগরতলা হয়ে বিলোনীয়া পর্যন্ত ডাবল লেন ট্র্যাক নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং রেলওয়ে বোর্ডের কাছে তা অনুমোদনের পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরকালেও রাজ্যের রেল পরিষেবার উন্নতি ও পরিকাঠামো বুদ্ধি সহ এই সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে নিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।


সভায় মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগের কাজ অতি দ্রুততার সাথে শেষ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এবিষয়ে এন এফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার জানান, বর্তমানে এই কাজটির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক মঞ্জুরীর পাওয়ার পর দ্রুত গতিতে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনটিকে সুসংহতভাবে একটি আন্তর্জাতিক মানের রেল স্টেশন গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সভায় এন এফ রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ধরণের অত্যাধুনিক রেলস্টেশনে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগসুবিধাসহ শপিংমল, ফুডকোর্ট, সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের ব্যবস্থা ও অন্যান্য উন্নত পরিষেবার সুযোগ সুবিধা থাকবে। এছাড়াও সারুমে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট পর্যন্ত রেল লিংক সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেওয়া হবে। রেল মন্ত্রক ও রেল বোর্ডের যে সমস্ত প্রকল্প মঞ্জুরীর অপেক্ষায় রয়েছে সেগুলির দ্রুত তদারকি করা এবং অন্যান্য রেল লিংকগুলির কাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা এন এফ রেলওয়ের আধিকারিকদের অনুরোধ জানান।


 সভায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের রেল স্টেশনগুলিতে আরও ফুট ওভার ব্রীজের সংখ্যা বাড়াতে অনুরোধ জানান। আগরতলা ও ধর্মনগর রেলস্টেশনে অ্যাক্সেলেটার চালুর ব্যাপারে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছিল। এরমধ্যে আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে ২টি অ্যাক্সোলেটার চালুর অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে এন এফ রেলওয়ের জেনারেল মানেজার সভায় জানিয়েছেন। আগরতলা-গুয়াহাটি ইন্টার-সিটি ট্রেন সার্ভিস চালুর ব্যাপারে রেলওয়ে বোর্ডের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তা যাতে দ্রুত কার্যকর হয় তার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগরতলা-দেওঘর রেল পরিষেবাকে সাবুম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে বলে সভায় জানানো হয়েছে। এছাড়াও আগরতলা- মুম্বাই আগরতলা জম্মু এবং আগরতলা- পুরা রেল পরিষেবা চালু করার ব্যাপারে রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদনের জন্য পাটানো হয়েছে। উপরন্তু, ধর্মনগর থেকে রেলের মাধ্যমে পেট্রো-পণ্য পরিবহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে পেট্রোপণো পরিবহণ খরচ যেমন হ্রাস পাবে তেমনি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে পণ্য পরিবহণে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।


ইতিমধ্যেই ২৩টি রোড ওভার ব্রীজ/ রোড আন্ডার ব্রীজ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২টির নির্মানের কাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে। বাকি কাজগুলোর দ্রুত শেষ করতে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন। রাজ্যে এগ্নি, হটি,মৃৎশিল্প, হস্তকারু শিল্পসহ রাজ্যে উৎপাদিত অন্যান্য সামগ্রী যাতে বহিরাজ্যে পাঠানো যায় তার জন্য সপ্তাহে একদিন বিষাণ রেল চালুর জন্য মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন। ওয়ান-স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট প্রকল্পে রাজ্যের সমস্ত রেল স্টেশনগুলিতে যাতে ঐ স্টেশন এলাকার নিজস্ব জনপ্রিয় বিশেষ ধরনের উৎপাদিত সামগ্রী প্রদর্শন করা যায় তার জন্য রেলওয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য হল, কৃষি, হর্টিকালচার এবং বাশজাত হস্ত ও কারুশিল্প যাতে স্থানীয় শিল্পী এবং উদ্যোগীরা বাজারজাত করতে পারেন এবং পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। রাজ্যের সবকয়টি স্টেশনে প্রয়োজনীয় টিকিট কাউন্টার এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যাক কর্মী দিয়ে টিকিট পরিষেবাকে সুদৃঢ় করা ও জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে বিশেষ নজর দেবার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন। পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নতিকল্পে ভিস্তা-ডোম কোচ চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি অনুমোদনের জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়। এছাড়াও এদিনের বৈঠকে সমস্ত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলির বাকি অংশে ছাউনি দেওয়ার বিষয়ে এবং রেল কোচগুলির। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করা ও যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।


বদরপুর থেকে সাড়ুম পর্যন্ত রেলওয়ে ট্র্যাকের বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ ২০২৩ এর সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে এন এফ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এদিনের সভায় জানানো হয়। বিলোনীয়া-ফেনী রেল সংযোগের ক্ষেত্রে ভারতীয় অংশের সার্চের কাজ শেষ হয়েছে, এবং তা রেলওয়ে বোর্ডের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অংশের কাজের অগ্রগতির বিষয়টি রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপের জন্য পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যায় বাধারঘাটস্থিত আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনের সভাকক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের পদস্থ আধিকারিকগণ ছাড়াও রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের বিশেষ সচিব ড. সন্দীপ রাঠোড় এবং অতিরিক্ত সচিব সুব্রত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে আজ বিকেলে মহাকাশে রাজ্যের মুখ্যসচিব জে কে সিনহার সাথেও এন এফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার আনসুল গুপ্তার নেতৃত্বে অনানা পদস্থ আধিকারিকদের একটি দল সাক্ষাতকারে মিলিত হন এবং রেল পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।




Rajya Sabha Bye-Election : মনোনয়ন জমা দিলেন বিজেপি প্রার্থী বিপ্লব কুমার দেব, প্রার্থী র‌‌ইলেন ২ জন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad