গৌহাটি, ২০ সেপ্টেম্বর : আসামের জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার ও অভিনেতা জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যুতে সমগ্র উত্তর-পূর্বে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর শিবসাগরের তিরুথিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তাঁর। অল্প বয়সেই সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন এবং কৈশোরে ব্যান্ড গড়ে তোলেন। ১৯৯২ সালে “আনামিকা” অ্যালবাম তাঁকে ঘরে ঘরে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে বলিউডেও প্লেব্যাক গেয়ে জাতীয় খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে “ইয়া আলি”, “দিল তু হি বাতায়ে” প্রভৃতি গান দেশজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন । আর গতকাল ডাইভিং করার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জুবিন গার্গ। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু আসাম ও সমগ্র উত্তর-পূর্বের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জুবিনের মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই স্কুবা ডাইভিং করতে জলে নামেন জুবিন এবং সেখানেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইভেন্ট ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দায়ী করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, পুরো আয়োজনের ব্যবস্থাপনায় একাধিক গাফিলতি ছিল, যা সরাসরি শিল্পীর প্রাণহানির জন্য দায়ী।
জুবিনের মৃত্যুর পর এফআইআর দায়ের প্রসঙ্গে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক মাধ্যমে জানান, শ্যামকানু মহন্ত এবং সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন সমস্ত এফআইআর সিআইডি-তে হস্তান্তর করতে এবং একত্রিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে সুবিচার নিশ্চিত করতে।
গোটা দেশের সাংস্কৃতিক মহল জুবিন গার্গের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। গায়কের সহকর্মীরা দাবি করেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য যারা পরোক্ষভাবে দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সাধারণ মানুষও সোশ্যাল মিডিয়ায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব।
জুবিন গার্গ শুধু গায়ক নন, তিনি ছিলেন অভিনেতা, সুরকার ও সমাজসেবকও। তাঁর অকাল প্রয়াণে সংগীতপ্রেমীরা বলছেন, আসামের সাংস্কৃতিক জগতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যু ঘিরে রহস্যের জাল কাটছে না।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন